ষ্টাফ রিপোর্টার:
মৌলভীবাজার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কুলাউড়ার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মামলায় ২০জন আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছেন। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(১) তৎসহ ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩৭৯/৩০৭/৩৪ ধারায় অপরাধ অভিযুক্ত হয়ে আসামীরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আদাল গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। ২১ নভেম্বর আদালত এ নির্দেশ প্রদান করেন।
আদালতের নির্দেশনা এবং মামলার এজহার থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ০২ আগষ্ট বিকালে কুলাউড়া চৌমুহনী চত্বরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা কোঠা প্রথা বাতিল এবং তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবীতে একদফা আন্দোলন করেন। এ আন্দোলনে কুলাউড়া উপজেলা ছাত্রদল, যুবদল ও সর্বস্তরের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ গ্রহণ করেন।
বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের রাস্তার উপর প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র দা, লাঠি, রামদা, লোহার রড ও অবৈধ অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে পুলিশের সহযোগীতায় বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ সমাবেশে ও মিছিলে বাধা প্রদান ও এলোপাতাড়ি আক্রমণ করে ১০/১৫ নেতাকর্মীকে মারাত্মক আহত করেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এ সময় আওয়ামীলীগের নেতাদের তান্ডবে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা বাসায় গিয়েও আত্মগোপনে চিকিৎসা নিতে পারেননি। আসামীগণের ভয়ে বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেছেন।
এঘটনায় ছাত্রদলের কুলাউড়া উপজেলা শাখা’র আহবায়ক সুলতান আহমদ টিপু বাদী হয়ে ৮ আগষ্ট কুলাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (জিআর মামলা নং ৫৯২/২০২৪)।
মামলায় আসামীরা হলেন, ১। কুলাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজুল তায়েফ ২। সাধারণ সম্পাদক আবু সায়হাম রুমেল ৩। সহ-সভাপতি তুহিনুর জামান ৪। সহ-সভাপতি আবু সালেহ কামরুল ৫। খায়রুল আলম মিন্টু ৬। নাহিদুল সুয়েব ৭। মোফাজ্জল হোসেন লিটন ৮। রাহিদুজ্জামান রাজু ৯। সুদীপ্ত চৌধুরী সত্যম ১০। জাকারিয়া হোসেন ১১। মিসবাহ উদ্দিন ১২। আবুল ফজল ফজলু ১৩। দিলওয়ার হোসেন দিলু ১৪। শংকর বৈদ্য ১৫। মাহমুদুল হাসান ১৬। কিবরিয়া আহমদ ১৭। আসাদুজ্জামান রনি ১৮। মো: আব্দুর রহমান ১৯। জসিম উদ্দিন বুলবুল ২০। সিরাজউন-নবী। ফরহাদ আহমদ ২২। মোহাম্মদ আলী ২৩। এস.এম রাসেল ২৪ । পংকজ দাস ও ২৫। মুনতাসির আহমদ সহ ৫০/৬০ জনকে আসামী করা হয়।
আদালতের তথ্য মতে আসামী খায়রুল আলম মিন্টু, মোফাজ্জল হোসেন লিটন, আবুল ফজল ফজলু, জসিম উদ্দিন বুলবুল ও এস.এম রাসেল গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকায় তারা ব্যতিত অন্যান্য সকল আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এবিষয়ে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত আসামীদের গ্রেফতার করার জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
কুলাউড়ায় ২০ আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা





















