বিশেষ প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজারের হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধানের উৎপাদন নিয়ে সন্তুষ্ট নয় কৃষকরা। কৃষকরা বলছেন আয়ের চেয়ে ফসল উৎপাদনে তাদের ব্যয় বেশি হয়েছে। যার কারনে বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন জেলার হাজার হাজার কৃষক। সময় মতো বৃষ্টি ও পানি সেচের ব্যবস্থা না থাকায় এ বছর ফলনও ভালো হয়নি। এদিকে জেলা কৃষি বিভাগ বলছে লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু মাঠে দেখা যায় কৃষকের কান্না।
এজেলার কৃষকরা বৈশাখের শুরুতেই ধান কাটা শুরু করেছেন। গ্রামের কৃষাণ-কৃষাণীদের এখন ব্যস্ত সময় কাটছে। তাদের দম ফেলার সময় নেই। ধান কাটার ধুম পড়েছে প্রতিটি হাওর অঞ্চলে। এ অঞ্চলের মানুষের একমাত্র সম্পদ হাওর। এখানকার মানুষের নির্ভরশীলতা হাওরের ফসলের উপর। সারা বছরের খোরাকী এবং সকল ব্যয় চলে ধান দিয়ে। কৃষকরা পুরো বছরের ধার দেনাও মিটান ধান বিক্রি করে। তবে এবছর বোরো মৌসুমে দীর্ঘ মেয়াদী খড়া ও পানি সেচের সুবিধা না থাকায় জেলার কাউয়াদীঘি হওরের পূর্বপারে কৃষকের রোপনকৃত ধানে ছিটা ধরায় লোকসানে পড়েছেন হাওর পারের প্রান্তিক ও বর্গা চাষীরা। কোথায়ও পুরো জমির ধানে ছিটা ধরায় কাটার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জেলার অন্যান্য হাওর গুলোতেও ধানে কিছুটা ছিটা ধরেছে এমন খবর পাওয়া যায়।
স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রমতে, জেলায় ৬টি হাওর রয়েছে। হাওরগুলোর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরে ২৬ হাজার ৭’শ ৫৪ হেক্টর, হাইল হাওরে ১২ হাজার ৫’শ ২৪ হেক্টর, কাউয়াদিঘী হাওরে ৭ হাজার ৫’শ ৪৫ হেক্টর, বড় হাওরে ১ হাজার ২’শ ৯০ হেক্টর, কেওলা হাওরে ৪’শ ৫০ হেক্টর ও করাইয়া হাওরে ২’শ ৬০ হেক্টর জমিতে বোর ধান চাষ করা হয়েছে।
হাওর কাউয়াদীঘির পূর্ব পারের পশ্চিম ভাগ গ্রামের জলাল মিয়া. জিল্লু মিয়া, আনছার মিয়া, জাবেল সহ অনেকে বলেন, এ বছর খড়ার কারণে পানির অভাবে আমাদের জমিতে ধানে ছিটা ধরে অনেক জমির ধান কাটার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আবার কিছু জমিতে ধান হলেও উৎপাদন তুলনামূলক অনেক কম। একই হাওরের ছালিক মিয়া বলেন, সময় মতো বৃষ্টি না হওয়াতে এবং নদী, খালে পানি না থাকায় জমিতে পানি দিতে পারিনি। আমার ১২ বিগা জমি নষ্ট হয়ে গেছে।
হাকালুকি হাওর পারের ভুকশিমইল ইউনিয়নের কৃষক মোঃ হায়দর আলী, জিতু মিয়া ও গিয়াস মিয়া বলেন, সময় মতো পানি দিতে না পারায় অর্ধেক ধানে ছিটা পড়েছে। বোরো চাষাবাদ করে এবার বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
মৌলভীবাজার কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী বলেন, এ বছর তাদের বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৩ হাজার ৫’শ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ৫৩ হাজার ৫’শ ৩০ হেক্টর, এর মধ্যে হাওর গুলোতে ৪৮হাজার ৪’শ ২৩ হেক্টর ও বাকিগুলো উচু জায়গাতে। যে সমস্ত কৃষকের ধানে ছিটা ধরে নষ্ট হয়েছে তাদের কোন সহায়তা দেয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভারল খারাপ হয়েছে এটা বলা যাবে না। তবে কিছু জমিতে ছিটা ধরেছে এটা আমাদের চোখে পড়েছে। আর এই চিত্র সবসময় তাকে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষকরা অনেকটা লাভবান হবেন।





















