বড়লেখা প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে ৫২৩ জন নারী-পুরুষ চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। ক্যাম্পে দুই শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চশমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ছানি রোগে আক্রান্ত ৮০ জনকে অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উপজেলার ১ নং বর্ণি ইউনিয়নের ফকিরবাজারে বর্ণি ইউনিয়ন উন্নয়ন ফোরামের কার্যালয়ে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
১ নং বর্ণি ইউনিয়ন উন্নয়ন ফোরামের আয়োজনে এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফয়সাল আহমদের সার্বিক সহযোগিতায় ক্যাম্পটির আয়োজন করা হয়। এতে ইস্পাহানি ইসলামীয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, কুলাউড়ার চিকিৎসকরা চিকিৎসাসেবা দেন।
ক্যাম্পে ৫২৩ জন রোগীর চোখ পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, প্রেসক্রিপশন ও পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুই শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চশমা দেওয়া হয়েছে।
চোখ পরীক্ষা শেষে ছানি রোগে আক্রান্ত ৮০ জনকে অস্ত্রোপচারের জন্য ইস্পাহানি ইসলামীয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের ছানি অস্ত্রোপচার করা হবে।
ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন বর্ণি ইউনিয়ন উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন, কামরান আহমদ, তারেক আহমদ, আবুল কালাম কিবরিয়া, আহমেদুল হাসান, মাজহারুল, জাবির আহমদ, ইমন আহমদ ও জুবের আহমদ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ছানি অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচিত রোগীদের হাসপাতালে পাঠানো, অস্ত্রোপচার এবং চিকিৎসা শেষে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত যাবতীয় খরচ বর্ণি ইউনিয়ন উন্নয়ন ফোরাম বহন করবে।
ফয়সাল আহমদ বলেন, “অর্থের অভাবে যেসব অসহায় মানুষ চোখের চিকিৎসা করাতে পারছেন না, তাদের চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে আমরা কাজ করতে চাই। এই ফ্রি চক্ষু ক্যাম্পের মাধ্যমে এলাকার অসহায় মানুষের চক্ষুসেবায় কিছুটা হলেও অবদান রাখতে পারছি।”
তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর আগেও তারা একটি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে অসংখ্য রোগীর ছানি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। এবারও বিপুলসংখ্যক রোগী ছানি অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। রোগীদের সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে।
ফয়সাল আহমদ আরও বলেন, “ইনশাআল্লাহ, আগামী মাসেও একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন করব। এলাকার সব পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে মানবতার সেবায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।”
ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন বলেন, “আমার মায়ের চোখের অপারেশন করানোর জন্য এখানে এসেছি। আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। টাকার অভাবে অনেক চিন্তায় ছিলাম। ফয়সাল আহমদের সহযোগিতায় এখানে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও অপারেশনের সুযোগ পেয়েছি।”
তিনি বলেন, “এখানে এসে চিকিৎসাসেবা পেয়ে আমরা অনেক খুশি। আমাদের মতো অসহায় মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অনেক বড় উপকার। যারা এই চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন, বিশেষ করে ফয়সাল আহমদ, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আল্লাহ যেন তাঁদের এই ভালো কাজের উত্তম প্রতিদান দেন।”
আয়োজকরা জানান, অর্থের অভাবে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যাতে চোখের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্যাম্পটি সফল করতে সহযোগিতা করায় চিকিৎসক, ইস্পাহানি ইসলামীয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান আয়োজকরা।













