স্টাফ রিপোর্টার (কুলাউড়া):
কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের জালালাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলামের বহুমুখী দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। মুজাহিদুল ইসলামের ওই প্রতিষ্ঠানে থাকাকালীন সময়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি, অসদাচরণের চিত্র তুলে ধরেন স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। প্রায় দুই বছর আগে স্বেচ্ছায় অবসরগ্রহণের পরও প্রধান শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম পুনরায় চাকুরি ফিরে পেতে নানা ষড়যন্ত্র করছেন বলেও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন।
স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতা শফিউল ইসলাম শিমুল, শাকিল আহমদ, আব্দুল কাইয়ূম, শিহাব আহমেদ, তানভীর আহমদ, তাওফিক ইসরাইল মাহদী ও আবু সাঈদ বলেন, ২০১২ সালের ১৭ জুন মুজাহিদুল ইসলাম প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। যোগদানের সময় উনার বড় ভাই উপজেলা আওয়ামীলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু’র প্রভাব খাটিয়ে তিনি ওই পদে আসীন হন। এরপর থেকে একের পর এক অনিয়মে জড়ান তিনি। শুধু তাই নয়, প্রধান শিক্ষক হিসাবে স্কুলে একক আদিপত্য বিস্তার শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষকের ভাই রফিকুল ইসলাম রেনু উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হলে প্রধান শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন। তিনি স্কুলের নারী শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণ শুরু করেন। তখন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতার ভাই হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খুলেননি।
ছাত্র জনতার আন্দোলনে গণঅভুস্থানে আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতা উনার বিরুদ্ধে ফুর্সে ওঠেন। তৎকালীন ইউএনও ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বরাবর ও বিভিন্ন দফতরে মুজাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। এসব অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়। পরবর্তীতে চতুর মুজাহিদুল ইসলাম ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেন এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে প্রতিষ্ঠান থেকে যাবতীয় পাওনা বুঝে নেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরের আবেদনের প্রেক্ষিতে এমপিও শীট থেকে নামও কর্তন করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতি হাইকোর্ট ডিভিশনে চতুর প্রধান শিক্ষক মুজাহিদ চাকুরি ফিরে পেতে একটি রিট পিটিশন নং- (১৩৬৪/২০২৬) দায়ের করেন। এই খবরে ক্ষোভে ফুসে উঠেছেন স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় লোকজন। তাদের দাবি স্বেচ্ছায় অবসরগ্রহণের পর আবার কিভাবে চাকুরি ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সেটা তাদের বোধগম্য নয়। তবে আমরা এই প্রতিষ্ঠানের মান-সম্মান ও ঐতিহ্য রক্ষায় যেকোনো কর্মসূচি দিয়ে প্রতিষ্ঠানের পাশে থাকবো।
এব্যাপারে সাবেক প্রধান শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী যা হয়েছে আমার সাথে সব জোরপূর্বক হয়েছে। কিছু শিক্ষক সাবেক ছাত্রদের ফুসলিয়ে এসব করাচ্ছেন।


















