ষ্টাফ রিপোর্টার:
মৌলভীবাজার পৌর শহরের শমসেরনগর রোডের হার্ডওয়্যার ও স্টেশনারি ব্যবসায়ী শাহ ফয়জুর রহমান ওরফে রুবেল (৫৫) হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ তথ্যে হত্যাকান্ডের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে জেলা বিএনপি, জামায়াত, শিবির ও এনসিপি’র একাধিক নেতার। তাদের ইন্ধনেই রুবেলকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ নিয়ে জেলার সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে।
পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ব্যবসায়ী শাহ ফয়জুর রহমান রুবেল এর দোকান “এফ রহমান ট্রেডিং” এ অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি প্রবেশ করে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে রুবেলকে হত্যা করে। ঘটনার পর রুবেলের পরিবার মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনায় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও অন্যান্য আলামতসহ হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার (১৭ আগস্ট) শ্রীমঙ্গল উপজেলার লইয়ারকুল এলাকা থেকে আসামী জুয়েল মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ ও নিহত রুবেলের পরিবারের কাছ থেকে জানা যায়, সাবেক এমপি, যুবলীগ নেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটার ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন এর বিরুদ্ধে আদালতে স্বাক্ষী দেয়ার জন্য তার এক সময়কার সহকারী অলি আহমদ’কে প্রভাবিত করতে চান জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মো: ইয়ামীর আলী ও এনসিপি নেতা আব্দুল কাদির তালুকদার, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান ও শিবিরের নেতারা। বিএনপি, জামায়াত এনসিপি ও শিবিরের নেতা তাদেরকে বলেন, “অলি আহমদ ব্যারিষ্টার সায়েদুল হক সুমন এর অফিসে কাজ করায় সুমনের অপকর্ম, সাধারণ মানুষকে নির্যাতন ও হয়রানি সহ অপরাধ সম্পর্কে সে অবগত। তুমি স্বাক্ষী দিলে নিশ্চিত তার সাজা হবে। তুমি স্বাক্ষীতে রাজি হলে তোমার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিগত দিনের মামলা থেকে খালাস করা হবে। তুমি নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। তোমাকে কেউ সমস্যা করবে না। কিন্তু অলি আহমদ রাজি না হওয়ায় তাকে ম্যানেজ করার জন্য তার পিতা সাবেক তাঁতীদল নেতা মো: এলাইছ মিয়া’র মামাতো ভাই নিহত শাহ ফয়জুর রহমান রুবেলের কাছে যান বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও শিবিরের নেতারা। শাহ ফয়জুর রহমান রুবেল বলেন, সে কেন মিথ্যা স্বাক্ষী দেবে? সে কোর্টে গিয়ে এ স্বাক্ষী দেবে না। সে অতিতেও অনেক নির্যাতন ও হয়রানির স্বীকার হয়েছে কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথানত করেনি। আপনারা কখনও এবিষয় নিয়ে আর আমার কাছে আসবেন না। ব্যবসায়ী রুবেল এ কথা বলার পরই জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মো: ইয়ামীর আলী, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান, এনসিপি নেতা আব্দুল কাদির তালুকদার পরের দিন পরিকল্পনা করে কয়েকজন সন্ত্রাসী শাহ ফয়জুর রহমান রুবেল এর কাছে পাঠান। সন্ত্রাসীরাও শাহ ফয়জুর রহমান রুবেল’কে বলেন অলি আহমদ কি জানিয়েছে। রুবেল বলেন, সে কোনোক্রমেই স্বাক্ষী দিতে রাজি হয়নি। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা উত্তেজিত হয়ে শাহ ফয়জুর রহমান রুবেল’কে হত্যা করেন। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, “কনটেন্ট ক্রিয়েটার ব্যারিষ্টার সায়েদুল হক সুমন এর বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দিতে জামায়াত নেতা ও এনসিপি নেতার কথায় ব্যারিষ্টার সায়েদুল হক সুমন এর সহকারী অলি আহমদ রাজি হননি। এক পর্যায়ে তার আত্মীয় ব্যবসায়ী শাহ ফয়জুর রহমান রুবেল’কে বলেন তাকে রাজি করানোর জন্য। কিন্তু রুবেলের কথাও তারা রাজি হননি। জামায়াত ও এনসিপি নেতা ক্ষোভে ও দলীয় সুবিধা নিতে সন্ত্রাসী দিয়ে শাহ ফয়জুর রহমান রুবেলকে হত্যা করিয়েছেন বলে আমাদের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
মৌলভীবাজারে ব্যবসায়ী রুবেল হত্যার রহস্য উদঘাটন



















