মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এক সিএনজিচালকের বাড়িতে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা চোর চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় আড়াই ভরি চোরাই স্বর্ণালংকার, দুটি মোবাইল ফোন এবং স্বর্ণ বিক্রির নগদ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
বুধবার সকালে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে থানা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— উপজেলার দোহালিয়া এলাকার জিল্লুর মিয়া (২৬) ও পারভেজ আহমদ (২৭), আরেঙ্গাবাদ এলাকার মনির হোসেন (৩৩), পূর্ব দক্ষিণভাগ এলাকার আব্দুল আহাদ (৪৪), জুড়ী উপজেলার হরিরামপুর এলাকার সুমন আহমদ (৩৮) এবং সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার গয়াসপুর এলাকার বাসিন্দা ও সিলেটের লালদিঘিরপাড়ের স্বর্ণ ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান (২৩)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ এলাকার বাসিন্দা ও সিএনজি অটোরিকশাচালক জসিম উদ্দিন গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার উদ্দেশ্যে বসতঘরে তালা দিয়ে বের হন। এই সুযোগে অজ্ঞাত চোরেরা ঘরের পেছনের জানালার সিটকিনি খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ওয়ারড্রবের ড্রয়ার ভেঙে জসিম উদ্দিনের ভাবির প্রায় ৩ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার (যার আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা) এবং দুটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর ভুক্তভোগী বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর বড়লেখা থানার এসআই শফিকুল ইসলাম, এসআই অলিয়ার রহমান ও এএসআই নজরুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় প্রথমে জিল্লুর, মনির ও আহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পারভেজ আহমদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পারভেজের হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া দুটি মোবাইল ফোন এবং স্বর্ণ বিক্রির নগদ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এরপর পারভেজের স্বীকারোক্তিতে জুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁর সহযোগী সুমন আহমদকে গ্রেফতার করা হয়।
সবশেষে গ্রেফতারকৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট মহানগরের কোতোয়ালী থানাধীন লালদিঘিরপাড়ের রহমান ম্যানশনে অবস্থিত ‘পুষ্পা জুয়েলার্স’-এ অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে চোরাই স্বর্ণ কেনার অপরাধে দোকানমালিক সাইদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে একটি গলার হার ও দুটি কানের দুল উদ্ধার করা হয়। পরে ভুক্তভোগী বাদী থানায় এসে উদ্ধার হওয়া ২ ভরি ১১ আনা ৯ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার নিজের বলে শনাক্ত করেন।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে চুরির ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত ও মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ছয়জনকে বুধবার যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
অপরাধ দমন ও এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।











