জুড়ী প্রতিনিধি:
মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়াতে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নে উঠান বৈঠক ও উন্মুক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় ফুলতলার রাজকী এলবিনটিলা মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জুড়ী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং মৌলভীবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় আয়োজিত সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা অংশ নেন।
ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম শেলুর সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য ইমতিয়াজ গফুর মারুফ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম, মৌলভীবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক ওমর কুমার সেন, ডাকটিলা বিওপির বিজিবি কমান্ডার শামসুল আলম, এলবিনটিলা চা-বাগানের সহব্যবস্থাপক অঞ্জন দেবনাথ, রাজকী এলবিনটিলা মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর সেলিম এবং ফুলতলা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ফুলতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, ইউপি সদস্য দছির উদ্দিন, স্বপন মল্লিক ও মোরশেদ আহমেদ, ডালিম আহমেদ, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঝুমা রাজ প্রধানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই বিপর্যস্ত করে না, এর প্রভাব পড়ে পুরো পরিবার ও সমাজের ওপর। বিশেষ করে তরুণদের মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আরও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ে বক্তারা বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁরা বলেন, বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা অন্য কোথাও জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই নিয়মিত জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, মাদক প্রতিরোধ ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ দুটিই জনসচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের বিষয়। স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ বাড়ানো গেলে এসব সমস্যা মোকাবিলা করা সহজ হবে।
সভা থেকে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করার পাশাপাশি নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রেখে ডেঙ্গুমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।











