নিত্যদিনের অভাব-অনটন আর চরম দারিদ্র্যকে সঙ্গী করেই পড়াশোনা চালিয়ে গেছে রেশমি আক্তার সুমাইয়া। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে যায়নি তার স্বপ্ন। অদম্য চেষ্টা আর মেধার জোরে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। তবে সাফল্যের পরও উচ্চশিক্ষার পথে নতুন করে দেখা দেয় আর্থিক সংকট। ভালো কলেজে ভর্তি ও পরবর্তী পড়াশোনার খরচ কীভাবে জোগাবে-এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে রেশমি ও তার পরিবার।
রেশমির এই সংগ্রাম ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা নজরে আসে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ তালুকদারের। বিষয়টি জানার পর তিনি রেশমির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে খোঁজ নেন।
এরপর বৃহস্পতিবার সকালে রেশমির হাতে আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেন ইউএনও সন্দ্বীপ তালুকদার। এ সহযোগিতায় কলেজে ভর্তি ও উচ্চশিক্ষার পথ কিছুটা হলেও সহজ হবে বলে আশা করছে রেশমি ও তার পরিবার।
অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা রেশমির কাছে জিপিএ-৫ অর্জন শুধু একটি ফলাফল নয়; এটি তার দীর্ঘ সংগ্রাম, পরিশ্রম ও স্বপ্নের প্রতিফলন। অর্থের সংকট যেখানে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা থামিয়ে দেয়, সেখানে রেশমির এই সাফল্য প্রমাণ করেছে সুযোগ ও সহায়তা পেলে প্রতিকূলতাকেও জয় করা সম্ভব।
রেশমির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগকে স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকেও ইউএনওর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
রেশমির মতো মেধাবী ও সংগ্রামী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথে আর্থিক সংকট যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়-এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে দারিদ্র্যের কারণে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা অনেক শিক্ষার্থীই নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রেশমির হাতে দেওয়া এই সহযোগিতা হয়তো তার জীবনের সব সংকট দূর করবে না, তবে স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এটি হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ এক সহায়তা। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে যে মেধা জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারে, সেই মেধা যেন আর্থিক সংকটে থেমে না যায়-এখন সেটিই রেশমি ও তার পরিবারের প্রত্যাশা।


















