শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি. নং বি-৭৭) সভাপতি, শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রখ্যাত চা শ্রমিক নেতা মাখন লাল কর্মকার আর নেই।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ২টার দিকে খেজুরিছড়া চা বাগানে নিজ বাসভবনে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল৬০ বছর।
দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও বিভিন্ন দাবি আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন মাখন লাল কর্মকার। তাঁর মৃত্যুতে চা শ্রমিক ইউনিয়ন, শ্রমিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সংসদ সদস্য হাজী মুজিবের শোক
মাখন লাল কর্মকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় তিনি বলেন, চা শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে মাখন লাল কর্মকারের দীর্ঘদিনের ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের শোক
প্রখ্যাত চা শ্রমিক নেতা মাখন লাল কর্মকারের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি পঙ্কজ এ কন্দ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, বালিশিরা ভ্যালীর সভাপতি বিজয় হাজরা ও চা শ্রমিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ পরেশ কালিন্দী।
এক শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
ওয়ার্কার্স পার্টির শোক
মাখন লাল কর্মকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নূর আহমেদ বকুল।
এক শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে চা শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য দাবির সংগ্রামে মাখন লাল কর্মকারের দীর্ঘদিনের ভূমিকা স্মরণ করেন তাঁরা।
জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের শোক
প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা মাখন লাল কর্মকারের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমরেড কামরুল আহসানসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
এক শোকবার্তায় তাঁরা শ্রমিক আন্দোলনে মাখন লাল কর্মকারের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
বাংলাদেশ টি স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের শোক
মাখন লাল কর্মকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ টি স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এক শোকবার্তায় বলেন, চা শিল্প ও চা শ্রমিকদের অধিকার এবং ন্যায্য দাবির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে মাখন লাল কর্মকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
তাঁর মৃত্যুতে চা শ্রমিক অঙ্গন একজন অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে হারিয়েছে উল্লেখ করে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানের শোক
মাখন লাল কর্মকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, চা শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য দাবির সংগ্রামে মাখন লাল কর্মকারের অবদান ও ত্যাগ দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।
রামভজন কৈরির শোক
মাখন লাল কর্মকারের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরি।
ফেসবুকে দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি, রাজঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী মাখন লাল কর্মকারের মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত। তিনি মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
বিভিন্ন মহলের শোক
মাখন লাল কর্মকারের মৃত্যুতে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
পৃথক শোকবার্তায় তাঁরা চা শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায্য দাবি আদায় এবং শ্রমিকদের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও দাবি-দাওয়া নিয়ে মাখন লাল কর্মকার দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে চা শ্রমিক অঙ্গন ও স্থানীয় সমাজে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
চা শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য দাবির আন্দোলনে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়া মাখন লাল কর্মকারের মৃত্যুতে স্থানীয় শ্রমিক আন্দোলনের অঙ্গনে একজন অভিজ্ঞ ও পরিচিত নেতার বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের অবসান হলো।


















