জুড়ী প্রতিনিধি:
মাদকের ছোবল, মোবাইল-অনলাইন আসক্তি ও মাঠবিমুখতার সময়ে জুড়ীর শিশু-কিশোরদের জন্য আশার আলো দেখিয়েছে ৯ প্রবাসীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২৫০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ‘জুড়ী এক্সপ্রেস স্পোর্টস একাডেমি’।
নতুন প্রজন্মকে মোবাইলের পর্দা থেকে মাঠে ফিরিয়ে আনা, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং জুড়ীর মাটিতে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়েই গড়ে উঠেছে এ একাডেমি।
এ উদ্যোগের সঙ্গে রয়েছেন প্রবাসী সৈয়দ জায়েদুল ইসলাম, তোফায়েল ইসলাম, আব্দুস সামাদ, মোহাম্মদ রাহেল, শাহীন আহমদ, তারেক ইসলাম, আব্দুল আহাদ, রাহাত ও তানবীরুল ইসলাম। প্রবাসে থেকেও নিজ এলাকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছু করার প্রত্যয় থেকেই তাঁরা এ উদ্যোগ নিয়েছেন।
উদ্যোক্তাদের মতে, একটি প্রজন্মকে শুধু শিক্ষিত করলেই হবে না—তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং আত্মবিশ্বাসী হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তাই শিশু-কিশোরদের মাঠে ফেরানোর পাশাপাশি তাদের মধ্যে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা ও দলগত চেতনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রাথমিকভাবে ২৫০ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের বাছাই করে পর্যায়ক্রমে জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু একটি স্পোর্টস একাডেমি নয়, জুড়ী এক্সপ্রেস স্পোর্টস একাডেমিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চান উদ্যোক্তারা। তাঁদের লক্ষ্য—জুড়ীর প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এবং এখান থেকেই একদিন জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় বের করে আনা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমানে যখন অনেক শিশু-কিশোর খেলাধুলার মাঠ ছেড়ে মোবাইল ফোন ও অনলাইন জগতে বেশি সময় কাটাচ্ছে, ঠিক তখন ৯ প্রবাসীর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক, অপরাধ ও বিভিন্ন ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি তাদের সম্ভাবনাকে বিকশিত করার পথ তৈরি করবে এ একাডেমি।
প্রবাসের মাটিতে থেকেও নিজ এলাকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভাবা—এ যেন শুধু একটি উদ্যোগ নয়, জুড়ীর ক্রীড়াঙ্গনের জন্য নতুন স্বপ্নের সূচনা।


















