শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
লজ্জাবতী বানর বা স্লো লরিসসহ নিশাচর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘স্লো লরিস আউটরিচ উইক ২০২৬’ উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।
রোববার দুপুরে শ্রীমঙ্গল শহরের গ্র্যান্ড তাজ হোটেলের হলরুমে প্লামপ্লরিস ই.ভি. বাংলাদেশের উদ্যোগে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্য, ট্যুরগাইড ও প্রকৃতিপ্রেমীরা অংশ নেন। আলোচনায় স্লো লরিসসহ নিশাচর প্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের সময় দায়িত্বশীল আচরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক, প্লামপ্লরিস ই.ভি. বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক হাসান আল-রাজী চয়ন, গবেষণা ও প্রাণী পরিচর্যা সমন্বয়কারী মারজান মারিয়া, উপব্যবস্থাপক ফাইয়াজ হাসান, বন্যপ্রাণী চিকিৎসক ডা. শরিফুল ইসলাম এবং গবেষণা সহকারী রিফাত আহমেদ ও দিশা।
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য ও মানুষের অসচেতনতার কারণে স্লো লরিসসহ বিভিন্ন নিশাচর প্রাণী ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এসব প্রাণী রক্ষায় বন ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও ট্যুরগাইডদের সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
বক্তারা বলেন, রাতে বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের সময় তীব্র সাদা আলো ব্যবহার করলে প্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ ব্যাহত হতে পারে। এ কারণে সাদা আলোর পরিবর্তে লাল আলো ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রাণীর কাছাকাছি না যাওয়া, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ ব্যবহার না করা এবং বন্যপ্রাণীকে খাবার না দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
আলোচনায় উদ্ধার করা বন্যপ্রাণী অবমুক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, প্রাণীটি যে এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সম্ভব হলে ওই এলাকার কাছাকাছি তার আবাসস্থলে অবমুক্ত করা উচিত। এতে প্রাণীটির পরিচিত পরিবেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।


















