কুলাউড়া প্রতিনিধি :
কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নে অজ্ঞাত একটি প্রাণীর হামলায় এক রাতে অন্ত:ত ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রাণীটি দেখতে শিয়ালের মতো ছিল। তবে এটি আসলে কী প্রাণী ছিলো তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বরমচাল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রাণীটি তাণ্ডব ছালায়। এতে আতংক ছড়িয়ে পড়ে পুরো ইউনিয়নে।
স্থানীয় লোকজন জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে বরমচাল ইউনিয়নের আলগড়া এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় বাড়ির উঠানে বসেছিলেন ফয়জুন বেগম নামে এক নারী। এ সময় হঠাৎ একটি অজ্ঞাত প্রাণী তার ওপর আক্রমণ করে। প্রাণীটি তার কান, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় দিয়ে তাকে রক্তাক্ত করে। তাকে রক্ষা করতে তার ভাই হাকিম মিয়া এগিয়ে এলে প্রাণীটি তার ওপরও আক্রমণ চালায়। এতে তিনিও আহত হন। উনাদের পার্শ্ববর্তী আরেক বাড়িতে হামলা করে আরোও দু’জনকে আহত করে।
এর কিছুক্ষণ আগে মাধবপুর লামাপাড়া এলাকায়ও এক ব্যক্তিকে একই ধরনের প্রাণী কামড় দিয়ে আহত করেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
পরবর্তীতে রফিনগর গ্রামে এক কিশোর এবং মাধবপুর খন্দকার মাজারের পাশে হোসাইন নামে এক কিশোর ওই প্রাণীর হামলার শিকার হন বলে জানা গেছে। এছাড়া ইসলামাবাদ এলাকায় আরও দুইজনের ওপর প্রাণীটি আক্রমণ করে। তাদের মধ্যে একজনের ঘাড়ে এবং অপরজনের কোমরে কামড় লাগে।
এ ছাড়াও বিচ্ছিন্নভাবে পুরো এলাকা জুড়ে অন্ত:ত ১৫ জনের অধিক ব্যক্তি প্রানীটির আক্রমনে গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহতদের কয়েকজনকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে অজ্ঞাত প্রাণী কর্তৃক একের পর এক আক্রমণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ইসলামাবাদ এলাকায় কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পেয়ে এলাকাবাসী প্রাণীটিকে ঘিরে ফেলে। স্থানীয় লোকজন প্রাণীটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন বলেও কয়েকজন জানিয়েছেন।
তবে নিহত প্রাণীটি ঠিক কী প্রজাতির, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রাণীটি শনাক্ত করার পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বরমচাল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইছহাক চৌধূরী ইমরান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একাধিক গ্রামে অজ্ঞাত প্রাণীর হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ উৎকন্ঠা সৃষ্টি হয়েছে।
















