কুলাউড়া প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে হোল্ডিং ট্যাক্সের ২০ লক্ষ টাকা এবং অন্যান্য প্রকল্পের আরো কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আত্মসাতের টাকা ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাব নাম্বারে জমার দাবী এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অপসারণ চেয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পরিষদের সদস্যরা। গত ২১শে জুলাই ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. কয়ছর রশিদ, ৩০শে জুন ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সোহেল আহমদ মাসুদ ও চলতি বছরের ২৪শে জানুয়ারি ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তছবির আলী ফয়জুল পৃথকভাবে এসব লিখিত অভিযোগ করেন।
এনিয়ে শনিবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে ৩জন ইউপি সদস্য সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ইউপি সদস্য আজিজ বেগ, সুহেল আহমদ মসুদ, কয়ছর রশিদ ও বিএনপি নেতা ডা: মো: মেরামত আলী।
পৃথক লিখিত আবেদন, সংবাদ সম্মেলন এবং ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত হোল্ডিং ট্যাক্স ও অন্যান্য প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে গত ৫ জুলাই পরিষদের সদস্যদের সমন্বয়ে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. কয়ছর রশিদ এর সভাপতিত্বে ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তছবির আলী ফয়জুল, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সোহেল আহমদ মাসুদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আজিজ বেগ, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ফটিক আলী ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের (৭,৮,৯) সদস্য অঞ্জলী নাইডু উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আব্দুল বাছিত ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। প্যানেল চেয়ারম্যান-১ হিসেবে ২০২৪ সালের ১৫ই ডিসেম্বর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সভা, প্রকল্প প্রস্তাব বিষয়ক সভা, আর্থিক সভাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সভা আহবান না করে প্রকল্প বণ্টনাদি বিষয়ক সিদ্ধান্ত তিনি এককভাবে নেন। তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের জন্য তিনি তার একক সিদ্ধান্তে একটি বেসরকারি সংস্থা নিয়োগ করেন। ওই সংস্থাটি ৩০ লক্ষাধিক টাকা আদায় করে বলে দাবি করছেন ওয়ার্ড সদস্যরা। আদায়কৃত টাকা থেকে ১২ জন ইউপি সদস্যের বকেয়া ভাতা বাবৎ প্রত্যেককে ৭৫ হাজার টাকা করে ৯ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়। অবশিষ্ট টাকা ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাব নাম্বারে জমা না দিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
সভা সূত্র আরও জানায়, ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য তছবির আলী’র অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গত ৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব প্রদান করেন। সরেজমিন তদন্তকালে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা পান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিতের বিরুদ্ধে।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা জানান, হোল্ডিং ট্যাক্সের আদায়কৃত টাকা এখন পর্যন্ত পরিষদের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়নি। তাছাড়া পরিষদের দৈনিক আয়-ব্যয় রেজিস্টারে নিয়মিত এন্ট্রি করে ব্যাংকে টাকা জমা রাখা এবং অনুমোদিত খরচের বিপরীতে চেক দ্বারা টাকা উত্তোলনের নিয়মও তিনি বন্ধ করে রেখেছেন। ফলে ব্যাংকে এখন কোন টাকা জমা হয়নি। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের অভ্যন্তরীন আয় থেকে প্রতিমাসে অন্তত ৪০/৫০ হাজার টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন।
জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে উপজেলার ১% এর অর্থ থেকে টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের জন্য ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার একক সিদ্ধান্তে প্রতি পিছ ১ হাজার ৩শ’ টাকা করে ২০টি নিম্নমানের আরসিসি পাইপ ক্রয় করে অবশিষ্ট ২ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। ২ নম্বর ওয়ার্ডের বালিসিন্দ্রি গ্রামের একটি রাস্তার কাজে ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের বরাদ্দে সংশ্লিষ্ট মেম্বারের নিকট তিনি ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় সেখানকার বরাদ্দ বাতিল করেন চেয়ারম্যান।
অভিযোগকারী সদস্যরা জানান, “আব্দুল বাছিত টিলাগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির কার্যকরী কমিটির সদস্য। এজন্য ক্ষমতার দাপটে পরিষদের অন্য সদস্যদেরকে তিনি পাত্তা দেননি”।
অভিযোগ রয়েছে, কৃষি প্রণোদনার ৩৫টি নামের মধ্যে পরিষদের কোন সভা ছাড়াই তিনি স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তার আত্মীয়স্বজন ও দলীয় লোকদের দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বলেন,“মিথ্যা অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে নাটক সাজানো হয়েছে। হোল্ডিং টেক্সের অডিট একাধিকবার হয়েছে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। ইউপি সদস্য সুহেল আহমদ মসুদ, কয়ছর রশিদ ও আজিজ বেগ’কে প্রজেক্ট না দেয়ায় তারা এ অভিযোগ এনেছেন। পরিষদের অন্যান্য সবাই আমার পক্ষে আছেন।



















