স্টাফ রিপোর্টার:
কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেছেন, ৫ আগস্টের ঘটনায় আওয়ামী লীগের ক্ষমা চাওয়ার কোনো অবকাশ নেই। তাঁর দাবি, আওয়ামীলীগ কোনো অপরাধ করেনি এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ‘কথিত বিপ্লব’ হিসেবে অবহিত করে তিনি উল্টো সহিংসতার জন্য আন্দোলনকারীদের দায়ী করে বিচারের দাবি করেছেন। তাঁর মতে, জুলাই-আগষ্টে ঘটে যাওয়া প্রাণহানি ও সহিংসতার জন্য উল্টো বিরোধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। দৈনিক মৌলভীবাজার প্রতিদিন’কে ৯ জুলাই দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, কারণ হিসাবে তিনি দাবী করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের (ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন) আমলে দেশ নিরাপত্তাহীনতা, সংঘবদ্ধ মব জাস্টিস, সামাজিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক সহিংসতার মুখে পড়েছে। শুধু আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের উপর দমন নির্যাতন নিপিড়ন চালানো হয়নি বরং অনেক নিরীহ মানুষ যারা আওয়ামীলীগের সমর্থক এবং আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের সাথে সম্প্রিক্ত থাকার কারণে অনেক’কে জীবন দিতে হয়েছে, পরিবার পরিজন ছাড়তে হয়েছে অনেকে ব্যবসা বাণিজ্য হারাতে হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ তিনি তার একজন কর্মচারির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান উনার মালিকানা সিলেটের আম্বরখানার হাউসিং স্টেট এলাকায় বাইতুর রাহমা বিল্ডিংয়ে আব্দুর রহমান ছানী নামের একজন যুবক কাজ করতো। ছানী সেখানে উনার বিল্ডিংয়ের মালামালের দায়িত্বে এবং ইলেকট্রিশিয়ান হিসাবে কাজ করতো, ৫ আগস্ট সেই বিল্ডিংয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে ছাত্র আন্দোলনকারী নামের সন্ত্রাসীরা এবং সেখানে থাকা সকল কর্মচারীদের উপর মারধর করে এবং একজন শ্রমিক’কে তারা মব সৃষ্টি করে হত্যা করে উল্টো আমাকে ১নং আসামী করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা দেওয়া হয় এবং তার বাড়িতে হামলা ভাঙচুর করে তার পরিবার’কে বিভিন্ন ভাবে হায়রানী করা হয়। এসব হামলা হায়রানির কারণে তার বাবা আমার ঘনিষ্ট ব্যক্তি কাইয়ামু ভাই’কে জীবন দিতে হয়।
কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক এমপি নাদেলের ভাষ্য অনুযায়ী—শুধু উনার সাথে সম্পর্ক থাকার কারণে এবং উনার মালিকানাধীন বিল্ডিংয়ে কাজের দায়িত্বরত থাকার করনে একটা পরিবারকে ধ্বংস হতে হয়। এভাবে শুধু আব্দুর রহমান ছানীর পরিবার নয় আরও অনেক পরিবারকে জীবন দিতে হয়েছে, হয়রানির স্বীকার, হামলা ও মামলায় জর্জরিত হতে হয়েছে। এগুলো পরিচালনা করতে গিয়ে অনেকেই আজ ভিটা মাটি বিক্রি করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
তিনি আরও বলেন “অস্ত্রের উল্লাস ও বুটের শব্দে গণতন্ত্র ফিরে আসে না।” তিনি দেশের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে জানান, আইএমএফ-এর পূর্বাভাস এবং দেশের নিম্নমুখী জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে তিনি বর্তমান প্রশাসনের ব্যর্থতা ও দেশের ‘সর্বনিম্ন অর্থনৈতিক দুরবস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এক পর্যায়ে তিনি নির্বাচন ও সংস্কার কমিশন নিয়ে জানান, সময় বেঁধে দিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে একতরফা সংস্কার বা নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করলেও যেকোনো অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের সাক্ষাৎকার ৫ আগস্টের ঘটনায় আওয়ামী লীগের ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই উঠেনা, সহিংসতার জন্য বিচারের কাঠগড়ায় তাড়াতে হবে আন্দোলনকারীদের















