ডেস্কঃ
সিলেট রুটে ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি ও অনলাইনে দ্রুত টিকেট উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় আদালতের স্বপ্রণোদিত মামলা এবং সিলেট জেলা প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সিলেট অঞ্চলের রেল টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে ঢাকা-সিলেট সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা বেড়েছে। এতে বেড়েছে কালোবাজারিও। অনলাইনে টিকিট ছাড়ার ৩ থেকে ৪ মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। এর বড় অংশই কালোবাজারিরা কিনে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকায় উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা, পারাবত এবং চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। এসব রুটের টিকিট অনলাইন প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে সব বিক্রি হয়ে যায়। ট্রেনের টিকিট নিয়ে নানা অভিযোগ ও যাত্রীদের ভোগান্তির মধ্যে সম্প্রতি এ ব্যাপারে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান। যেটি নজরে আসে আদালতের। সিলেটে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি নিয়ে সমালোচনার মধ্যে এবার অভিযানে নেমেছে জেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালানো হয়।
আগামী সোমবার (১২ অক্টোবর ) থেকে ট্রেনের টিকিটে নাম ও যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নামের মিল না থাকলে যাত্রীকে যেতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি সিলেট থেকে ঢাকা বা অন্য কোথাও যেতে চান তাহলে অবশ্যই তার টিকিটের সাথে এনআইডি কার্ডের নাম মিল থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
চারজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এ অভিযানে ট্রেনের টিকিট নিয়ে অনিয়ম ও অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযান শেষে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা দেখেছি কিছু কিছু যাত্রীর টিকিটের সাথে এনআইডির নাম মিলছে না। আমরা ৩/৪ দিন সময় দিচ্ছি। ১২ তারিখ থেকে কঠোর অপারেশন শুরু হবে। আমি চেক করবো। রেল স্টেশনে রেগুলার ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে।
এরআগে অভিযানে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীর মূল নামের সাথে অনলাইনে কাটা টিকিটের নামের কোনো মিল নেই। ট্রেন ভ্রমণকে কালোবাজারিমুক্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য সহজ করতে এই অভিযান ও কঠোর তদারকি নিয়মিত চলবে বলে আশ্বস্ত করেছে জেলা প্রশাসন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, একটি চক্র ট্রেনের টিকিট বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কারও কারও সহযোগিতায় মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের টিকিট সরিয়ে নিয়ে পরে তা অধিক মূল্যে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে থাকতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাধারণ যাত্রীদের হয়রানির পাশাপাশি সিলেটের পর্যটনশিল্পের বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কালোবাজারি ও মজুদদারির মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে- এমন সন্দেহের ভিত্তিতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লা আল নোমান স্ব-উদ্যোগে মিস মামলা নং-০১/২০২৬ দায়ের করেন। বিষয়টি নিয়ে সিলেট রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম জানান, রেলের টিকিট অনলাইনে ক্রয় করতে হয়। কেউ কেউ সরাসরি কাউন্টার থেকেও ক্রয় করেন। টিকিট বিক্রিতে আমাদের কোনো হাত নেই।















