রাজনগর প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের রাজনগরে বিনতী রানী কুন্ডু (৫২) নামে এক গৃহবধূর লাশ পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে ঘর থেকে বের হওয়ার পরদিন শনিবার সকালে পার্শ্ববর্তী পুকুরে তাঁর লাশ ভাসতে দেখা যায়। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের কাটাজুরি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার সুন্দরদী গ্রামের বাসিন্দা অশোক কুন্ডু ও তাঁর স্ত্রী বিনতী রানী কুন্ডু রাজনগরের মনসুরনগর ইউনিয়নের কাটাজুরি গ্রামে হাজেরা বেগমের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। অশোক কুন্ডু রাজনগর বাজারের একটি টেইলার্সের দোকানে কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক বিষয় নিয়ে কলহ হতো। শুক্রবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে অভিমান করে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হয়ে যান বিনতী রানী। এরপর তিনি আর ঘরে ফেরেননি।
শনিবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে তাঁর লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে রাজনগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ জানায়, আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে শুক্রবার রাতে বিনতী রানী কুন্ডু ঘর থেকে বের হয়ে যান। তবে রাতে আর ঘরে ফেরেননি। এ সময় তাঁর স্বামী ঘরে অবস্থান করলেও তাঁকে খুঁজতে বের হননি। তবে কীভাবে ওই গৃহবধূ পুকুরে পড়ে মারা গেলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে ওই গৃহবধূকে ঘর থেকে বের হতে দেখা গেলেও পুকুরে পড়ার কোনো দৃশ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর স্বামীও রাতে ঘর থেকে বের হননি বলে ফুটেজে দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।













