জুড়ী প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ৫ নম্বর জায়ফরনগর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) জায়ফরনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসাইনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা এ শিবিরে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাঁচ-ছয় শতাধিক নারী-পুরুষ বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগীদের চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেন। পাশাপাশি রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।
শিবিরে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে প্রায় ২০০ জনকে বিনামূল্যে চশমা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ছানিসহ বিভিন্ন জটিল চক্ষুরোগে আক্রান্ত ৫৮ জন রোগীর উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপারেশনের পর প্রয়োজনীয় ফলোআপ চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, জুড়ী উপজেলায় এটি ছিল চতুর্থ ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা শিবির। শিবিরে ছানি রোগ শনাক্তকরণ, চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, ছানি অপারেশনের জন্য রোগী নির্বাচন, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা বিতরণ এবং পরবর্তী ফলোআপসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়। চিকিৎসা কার্যক্রমে সহযোগিতা করে মৌলভীবাজারের মাতারকাপন এলাকায় অবস্থিত বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনৈতিক সংকট, চিকিৎসার ব্যয় ও দূরত্বের কারণে অনেকেই নিয়মিত চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন না। একই স্থানে বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ, ওষুধ, চশমা এবং প্রয়োজনীয় অপারেশনের সুযোগ পাওয়ায় তাঁরা উপকৃত হয়েছেন।
অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসাইন বলেন, “প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যাতে সহজে প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসাসেবা পান, সেটিই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। অর্থের অভাবে কোনো মানুষ যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি। মানুষের কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।”
তিনি আরও বলেন, মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সুস্থ থাকা। বিশেষ করে চোখের সমস্যায় অনেক মানুষ সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে থাকেন। তাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা রয়েছে।













