ডেস্কঃ
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বর্ষিজোড়া এলাকায় রেজাউল করিম নাঈম হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৫ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ রবিউল আউয়ালের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—বর্ষিজোড়া এলাকার মো. নুরুল ইসলাম, মো. সাইমন ইসলাম, দণ্ডপ্রাপ্ত নুরুল ইসলামের ছেলে নাহিদুল ইসলাম রনি এবং আনোয়ার হোসেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
অন্যদিকে খালাসপ্রাপ্তরা হলেন—বর্ষিজোড়া এলাকার ইদন মিয়ার ছেলে ইমন মিয়া, নাজিরাবাদ ইউনিয়নের সাহিদ মিয়ার ছেলে আল আমিন, বর্ষিজোড়া এলাকার মো. রমিজ মিয়ার ছেলে সাকির আহমদ ওরফে শাকিল, দণ্ডপ্রাপ্ত মো. নুরুল ইসলামের স্ত্রী পারভীন বেগম ও মেয়ে রুকশানা আক্তার।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে রেজাউল করিম নাঈমের ওপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় আসামিরা। এতে তিনি মারাত্মকভাবে জখম হন। পরিবারে সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে পরদিন ৮ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত নাঈমের বাবা মো. চেরাগ মিয়া বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও শুনানি শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট। আসামিদের দণ্ড প্রদানে বাদীপক্ষসহ আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা বাড়বে। অপরাধীরা বুঝতে পারবে যে, অপরাধ করে আইনি সাজা থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আমরা প্রত্যাশা করি উচ্চ আদালত এ সাজা বহাল রাখবেন।















