জুড়ী প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর মৌজায় দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের অবসান ঘটিয়ে আদালতের রায়ের মাধ্যমে জমির স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন নিখিল চন্দ্র দাস। একই সঙ্গে আদালতের রায় অনুযায়ী জমির দখল বুঝিয়ে দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং বর্তমানে জমিতে বসবাসরত কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে সামাজিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি চান তিনি।
এ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিখিল চন্দ্র দাসের পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন তাঁর ছেলে শ্রীনিবাস চন্দ্র দাস (চুনু)।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর মৌজায় এসএ খতিয়ান নং-১২৫, আরএস-২৬০, এসএ দাগ নং-১৪০৩ ও ১৪০৪ এবং আরএস দাগ নং-১৬৭১ ও ১৬৭২-এর আওতাধীন মোট ৩ একর ৭ শতক জমি রয়েছে। মালিকপক্ষের দাবি, এ জমির মূল মালিক ছিলেন দুই সহোদর জিতেন্দ্র কুমার দাস ও বারিত কুমার দাস।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বারিত কুমার দাস নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যাওয়ার পর তাঁর সম্পত্তির মালিক হন জিতেন্দ্র কুমার দাস। জিতেন্দ্র কুমার দাসের তিন ছেলে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজন নিঃসন্তান ছিলেন। পরবর্তীতে জিতেন্দ্র কুমার দাস মৃত্যুর আগে তাঁর সম্পত্তি জ্যেষ্ঠ ছেলে নিখিল চন্দ্র দাসের নামে দলিল করে দেন বলে দাবি করা হয়।
মালিকপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর উল্লিখিত ৩ একর ৭ শতক জমি অর্পিত সম্পত্তি (ক তফসিল) হিসেবে সরকারি নথিভুক্ত হয়। এর মধ্যে প্রায় ২ একর ৮২ শতক জমি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সরকারের কাছ থেকে একসনা বন্দোবস্ত নেন। পরে বন্দোবস্ত গ্রহণকারীরা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ওই জমি বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
জমির স্বত্ব ফিরে পেতে ২০০৮ সালে আদালতে মামলা করেন নিখিল চন্দ্র দাস। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের আইনি লড়াই শেষে সম্প্রতি আদালতের রায়ে ওই জমিতে তাঁর স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর নামে জমির নামজারিও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়।
মালিকপক্ষ আরও জানায়, আদালতের রায়ের পর জমির দখল বুঝে পেতে এবং কথিত অবৈধ দখল সংক্রান্ত বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে লক্ষ্যে সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মালিকপক্ষের লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু বিষয়টি জানতে পেরে সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৬ আগস্ট তাঁর প্রতিনিধিত্ব করে জুড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু ও বিএনপি নেতা নাজমুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
তবে মালিকপক্ষের অভিযোগ, এ সময় সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয় এবং বিভিন্ন সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তোলা হয়। এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে নিখিল চন্দ্র দাসের পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে নিখিল চন্দ্র দাসের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা কোনো ধরনের সংঘাত বা সামাজিক বিভেদ চান না। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালতের রায়ের মাধ্যমে যে স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন, তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন চান।
একই সঙ্গে বর্তমানে ওই জমিতে বসবাসরত পরিবারগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সামাজিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে শ্রীনিবাস চন্দ্র দাস বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক। তাই আদালতের রায়, সরকারি নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জুড়ী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের সামাজিক বিভেদ বা উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মালিকপক্ষের দাবি, প্রশাসন আদালতের রায় ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং জমির দখল প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তিতে প্রশাসন, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।


















