শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
ঐতিহ্যবাহী মণিপুরি তাঁতশিল্প নানা সংকটে ধুঁকছে। কমছে তাঁতের সংখ্যা, অনাগ্রহ বাড়ছে নতুন প্রজন্মের মধ্যে। এমন বাস্তবতায় হারিয়ে যেতে বসা এ শিল্পকে আধুনিক নকশা ও উন্নতমানের পণ্যের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। মণিপুরি তাঁতপণ্যের ডিজাইন ও মানোন্নয়নে পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন ৩০ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ডলুবাড়ি এলাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন (এসএমই ফাউন্ডেশন) আয়োজিত এ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান।
কর্মশালায় মণিপুরি শাড়ি, ওড়না, জামাসহ বিভিন্ন তাঁতপণ্যে আধুনিক ও আকর্ষণীয় নকশা তৈরির কৌশল শেখানো হয়। পাশাপাশি পণ্যের মানোন্নয়ন ও বৈচিত্র্য আনার বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অসীম কুমার কর, এসএমই ফাউন্ডেশনের জুনিয়র অফিসার সৈয়দ নাফিজ তানজিম, কো-অর্ডিনেটর (শ্রীমঙ্গল তাঁত শিল্প ক্লাস্টার) মো. রবিউল ইসলাম রাসেল, নারী উদ্যোক্তা সালেহা বেগম ও প্রশিক্ষক মাইন উদ্দিন ফুয়াদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা।
এর আগে গত শনিবার সকালে পাঁচ দিনব্যাপী এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।
দেশের প্রাচীন হস্তশিল্পগুলোর অন্যতম মণিপুরি তাঁতশিল্প। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মণিপুরি সম্প্রদায়ের জীবন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে এ শিল্প জড়িয়ে আছে। একসময় মণিপুরি অধ্যুষিত এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই তাঁত বোনার খটখট শব্দ শোনা যেত। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলে গেছে।
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতি, আধুনিক প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বাজারসংকট এবং নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহসহ নানা কারণে ঐতিহ্যবাহী কোমরতাঁতশিল্প সংকটে পড়েছে। অনেক তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে; কমেছে উৎপাদনও।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মণিপুরি তাঁতশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে শুধু ঐতিহ্য ধরে রাখাই যথেষ্ট নয়, সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পণ্যে আধুনিক নকশা, উন্নতমান ও বৈচিত্র্য আনতে হবে। একই সঙ্গে বাজার সম্প্রসারণ ও উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজন সহজ শর্তে ঋণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও নিয়মিত প্রশিক্ষণ।
এসএমই ফাউন্ডেশনের এ প্রশিক্ষণ উদ্যোগের মাধ্যমে মণিপুরি তাঁতপণ্যের নকশা ও মানে পরিবর্তন আসবে এবং এসব পণ্যের নতুন বাজার তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে হারিয়ে যেতে বসা মণিপুরি তাঁতশিল্প আবারও সম্ভাবনাময় একটি শিল্পখাত হিসেবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।


















