বিশেষ প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজার পৌর শহরের হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যায়ের বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগম হঠাৎ করে বিদ্যালয়ে আসলে তালাবদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা তার একদফা স্থায়ী বরখাস্তের দাবি করেন। প্রধান শিক্ষকের কক্ষ তালাবদ্ধ করে দরজার সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা এবং তারা নানা স্লোগান দেয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক ও কমিটির অভিভাবক সদস্যরা বলেন, “ সাময়িক বরখাস্ত থাকাবস্থায় এভাবে হঠাৎ করে বিদ্যালয়ে আসা তার ঠিক হয়নি। বিদ্যালয়ে এসে তিনি যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছেন এর দায় উনাকে নিতে হবে। বিষয়টি বিদ্যালয়ের সভাপতি অতিরিক্ষ জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আসমা সুলতানা নাসরীন”কে অবগত করা হয়েছে।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অতিরিক্ষ জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আসমা সুলতানা নাসরীন বলেন, “মৌলভীবাজার জজ কোর্ট উনাকে বরখাস্ত করে। পরবর্তীতে তিনি হাই কোর্টে আপিল করলে হাই কোর্টও বরখাস্ত বহাল রাখে। আজ তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে আদালত অমান্য করেছেন। এর দায় উনাকে নিতে হবে”।
উল্লেখ্য, বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক রাশেদা’র অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে রাশেদা বেগমের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিক তদন্ত কমিটি করে।
এর প্রেক্ষিতেই ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি’র সভাপতি মেহনাজ ফেরদৌস স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে থাকে বরখাস্ত করা হয়।
অফিস আদেশে মেহনাজ ফেরদৌস উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, অর্থনৈতিক দুর্নীতি, কর্তব্যে গাফিলতি এবং প্রশাসনের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণের চরম অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণেই প্রশাসন তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্বচ্যুত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।



















