শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি :
শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতি প্রাপ্ত মো.তাজ উদ্দিন (তাজু) বলেছেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত ও পাওনা টাকা নিয়ে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাজি মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সাথে মত বিরোধ থাকার কারনে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখতে আমাকে উপজেলা বিএনপির পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।’
এ আসনের সংসদ সদস্যকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন,’এক ব্যক্তির একক সিদ্ধান্তে মিথ্যা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অজুহাতে আমাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।’
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় স্থানীয় একটি রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন উপজেলা বিএনপির সদ্য অব্যাহতি প্রাপ্ত যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন তাজু।
তিনি বলেন, ‘গত ১৬ আগস্ট মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে আমাকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অথচ অব্যাহতি দেওয়ার আগে আমাকে কোনো শো’কজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি। গণমাধ্যম ও দলীয় সূত্রের মাধ্যমে আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি।
তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত আমি ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে সাংগঠনিক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছি । নির্বাচনের ২-৩ সপ্তাহ পূর্বে দলীয় কিছু বিষয় ও আমার ব্যক্তিগত আর্থিক দেনা-পাওনা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। এরপর থেকেই আমাকে বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘২০০৬ সালে বর্তমান এমপি’র সহিত প্রবীণ নেতা মরহুম এম এ সাইফুর রহমানের হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দেই। ৫ জানুয়ারী ২০০৯ থেকে ৫ আগষ্ট ২০২৪ পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে ৩০টির অধিক মিথ্যা ও গায়েবী মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এসব মামলায় বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৭শ’ ২০ দিন কারাবরণ করেছি। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। পরিবারের সদস্যরাও হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন।
তাজ উদ্দিন তাজু বলেন,সংসদ নির্বাচনে পাস করার পর সংসদ সদস্য দলের ত্যাগী,নির্যাতিত নেতাকর্মীদের অবমূলয়ান করে চলেছেন। অথচ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলে পবিত্র রমজান মাসের ইফতার মাহফিলে যারা হামলা- মামলা করেছে, নির্যাতন করেছে সেই আওয়ামী দোসররা আজ সংসদ সদস্যের চারপাশে ঘিরে রেখেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে দলীয় কাউন্সিল ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া ছাড়া পকেট কমিটি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম আহবায়ক এর পদ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্তকে অন্যায় ও অগঠনতান্ত্রিক উল্লখ করে তিনি জেলার এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবী জানান। এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী এর মুঠো ফোন বক্তব্য নিতে কল করা হলে তার এপিস শাকিল ফোন ধরে জানান,এমপি সাহেব সংসদ ভবনের ভেতরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাভুটিতে রয়েছেন।
বিএনপি’র ইফতার পার্টিতে হামলাকারীরা এখন সংসদ সদস্যকে ঘিরে রেখেছে বিএনপি নেতা তাজুর অভিযোগ



















