স্টাফ রিপোর্টার:
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের বাদে ভুকশিমইল গ্রামে ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় বঙ্গবন্ধু আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল খালিক বিদ্যালয়ের ভুমি দাতা ছিলেন এবং উনার পরিবারের আর্থিক সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি পাঠদান শুরু করে। বঁঙ্গবন্ধুর নামে বিদ্যালয় এবং আওয়ামীলীগের সম্পৃক্ততা থাকায় ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে ওই ঘটনায় বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আকমল মিয়া’কে হত্যা করা হয়। নৈশপ্রহরী হত্যার ঘটনায় বিদ্যালয় সভাপতি বিএনপি নেতা হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে সাবেক শিক্ষার্থী ও এলাকার সাধারণ মানুষ সহ ১৯ জন’কে আসামী করে ১৩ সেপ্টেম্বর কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ৫৩ (০৯) ২০২৪)। এ মামলায় অজ্ঞাতনা আসামী রাখা হয়েছে। হত্যা মামলায় সিলেট মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা কামরান হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়। তবে কামরান হোসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়। তাকে ফাঁসানোর জন্য মৌভলীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি ও ভুকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির এর নির্দেশে এ হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বঁঙ্গবন্ধু আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে আব্দুল খালিকের পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁদের ভূমিকার কারণে তাঁদের পরিবারের নাম ও পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয় বিদ্যালয় থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলানো হয়। সেই পরিস্থিতির মধ্যে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করায় কামরান হোসেনকে নৈশপ্রহরী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। মামলার পর ১৫ সেপ্টেম্বর কুলাউড়া থানা পুলিশ কামরান হোসেনকে গ্রেফতার করতে তার বাড়িতে অভিযান চালায়। কামরান’কে না পেয়ে তাঁর বাবা আওয়ামীলীগ নেতা হাজী আবু সাইদ বাচ্চু’কে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। এছাড়া সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ কামরান হোসেনের আপন চাচা এবং তাঁদের পরিবারের একজন সদস্য। তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতি ও সম্পৃক্ততার কারণে কামরান হোসেনের পরিবারও বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক চাপ ও হয়রানির শিকার হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের দায়িত্ব বা চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও বিতর্ক তৈরি হয়। একইভাবে উপজেলার উত্তর কুলাউড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে মাহতাব ছায়েরা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় রাখা হয়েছে। চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে আলী আমজাদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদির, জালালাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাহিদুল ইসলাম সহ অনেককেই। কুলাউড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: আনোয়ার বলেন, “ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তর আলোকে নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। আমাদের কিছু করা নেই। কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, “নৈশ্যপ্রহরী খুনের ঘটনায় বিদ্যালয় সভাপতি হাফিজুল ইসলাম হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামীদের গ্রেফতার করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
কুলাউড়ায় বঙ্গবন্ধু আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনে বাধা দেয়ায় নৈশ্যপ্রহরী খুন, সাবেক শিক্ষার্থীদের আসামী করে হত্যা মামলা





















