ডেস্কঃ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের উলামা লীগ ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁর এই দল পরিবর্তন ও বিএনপিতে যোগদানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকুর উপস্থিতিতে বিএনপিতে যোগদানের পড় তাঁকে ফুলের মালা পরিয়ে অভিবাদন জানান বিএনপির নেতাকর্মীরা।
শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী ভাটেরা ইউনিয়ন উলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর একাধিক ছবি রয়েছে আওয়ামীলীগের একাধিক এমপি, মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের সাথে।
এদিকে আওয়ামী লীগ নেতার বিএনপিতে যোগদান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা ছাত্রদলের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। যোগদানের খবরের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিক হোসেন তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন— “এম এম শাহীন পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের পর থেকে কুলাউড়া বিএনপিতে আমার চেয়ে বেশি টাকা কেউ খরছ করে নি আমার মনে হয়। বর্তমানে দল ক্ষমতায়, আপনারা নিরাপদে আওয়ামী পুনর্বাসন করতেছেন, তাহলে আমার ভাগটা দিয়া দিয়েন, যেহেতু দলে ইনভেস্ট করছি, এখন তো আমার প্রাপ্য আমাকে বুঝাইয়া দিয়েন।”
অন্যদিকে, আওয়ামীলীগ শাসনামলে প্রভাব খাটিয়ে নানান হেনস্থা করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মুহিত আহমেদসহ একাধিক ভুক্তভোগীরা। শেখ সাইফুল আলম সিদ্দিকী ও তাঁর সহোদরদের বিগত দিনের বিতর্কিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা।
মুহিত আহমেদ বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাইফুল আলম সিদ্দিকী ও তাঁর ভাইয়েরা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছেন। বিশেষ করে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নিজেদের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের নাটক সাজিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হয়, যার মাধ্যমে তৎকালীন স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের অসংখ্য নেতাকর্মীকে চরম হয়রানি করা হয়েছিল। এই ঘটনায় সাইফুল আলম সিদ্দিকী ও তাঁর ভাই বদরুল আলম নানু সরাসরি জড়িত ছিলেন।
একই কথা জানান ভাটেরা ইউনিয়নের বাসিন্দা বাপন মিয়া, জগলু মিয়া, সালাহ উদ্দিনসহ একাধিক বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরাও।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির এক নেতা জানান, বিগত সরকারের আমলে সাইফুল আলম সিদ্দিকী ও তাঁর ভাইদের বেপরোয়া তাণ্ডব, দাপট ও নানা অপকর্মের কারণে ভাটেরা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে আমাদের এমপির উপস্থিতিতে বিএনপিতে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়ায় সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে।








