জুড়ী প্রতিনিধি:
গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। পরিবেশ বাঁচাতে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে মানুষকে উৎসাহিত করা হয়। কিন্তু সেই গাছই যখন মরে গিয়ে ব্যস্ত সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে, তখন তা হয়ে উঠতে পারে পথচারী ও যানবাহনের জন্য বড় ঝুঁকি। বিশেষ করে ঝড়ো হাওয়া কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এসব গাছ ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তাই দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছগুলো অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জুড়ী-লাঠিটিলা সড়কের নয়াবাজার এলাকায় আটটি এবং জুড়ী কলেজ রোডে দুটি গাছসহ মোট ১০টি গাছ মরে গেছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দায়িত্বাধীন সড়কের পাশে থাকা এসব মরা গাছ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো মরে দাঁড়িয়ে থাকায় যেকোনো সময় ডালপালা কিংবা পুরো গাছ ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জুড়ী-লাঠিটিলা সড়ক ও জুড়ী কলেজ রোড দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি এসব সড়ক ব্যবহার করেন শিক্ষার্থী, পথচারী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। সড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা মরা গাছগুলো বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সময় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। গাছের ডাল ভেঙে যানবাহন বা মানুষের ওপর পড়লে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দা আবি হোসাইন বলেন, সড়কের পাশে মরা গাছগুলো দীর্ঘদিন ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ব্যস্ত সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। কোনো কারণে গাছগুলো ভেঙে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দুর্ঘটনার জন্য অপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত গাছগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “গাছ কাটার জন্য আমাদের কোনো অনুমতি নেই। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে সে বিষয়ে তদন্তের ব্যবস্থা নিতে পারব।”
জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী বলেন, গাছ গুলো অপসারণে কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে, “গোয়ালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে একটি লিখিত চিঠি দিলে গাছগুলো অপসারণের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখব।”
গোয়ালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম বলেন, “মরা গাছগুলো অপসারণ করা খুব জরুরি। আমি মৌখিকভাবে একাধিকবার বলেছি, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। এবার খুব দ্রুত লিখিত চিঠি পাঠাব। যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন গাছগুলো অপসারণ করা হয়, সেটিই আমার প্রত্যাশা।”
স্থানীয়দের মতে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দায়িত্বাধীন সড়কের পাশে থাকা মরা গাছগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে বিধি অনুযায়ী গাছগুলো অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হলে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে।













