মাহিনুর ইসলাম মাহিন, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
দীর্ঘ ২৯ বছরের শিক্ষকতা জীবনের অবসানে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বর্ণি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শ্রী বিভূতি ভূষণ চক্রবর্তীকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। প্রিয় শিক্ষককে গাড়িবহরে করে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে এসে অভ্যর্থনা জানান সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। পরে প্রবাসী সাবেক শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাঁকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক উপহার দেওয়া হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বর্ণি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। একই অনুষ্ঠানে ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনাও দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিনের প্রিয় শিক্ষককে ঘিরে অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গাড়িবহরে করে বিভূতি ভূষণ চক্রবর্তীকে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসার সময় সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা তাঁকে সম্মান জানান। পরে অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে সম্মাননা হিসেবে সাড়ে ৩ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইসলাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ১ নম্বর বর্ণি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্ণি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি জাহিদ হাসান শিমুল, সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান সরোয়ার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সভাপতি সুবেদার রিয়াজউদ্দিন, সাবেক সভাপতি আব্দুল মুহাইমিন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম মত, মাইজগ্রাম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন, বর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কায়েদে আজম, ফকিরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাবলু হোসেন এবং শিল্পপতি ও সমাজসেবক জামাল সৈয়দ জুবের।
অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য দেন আব্দুর রহিম ও বীথিকা রানী। বক্তারা বিভূতি ভূষণ চক্রবর্তীর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও মূল্যবোধ গঠনে তাঁর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বিদায়ী শিক্ষকের সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় অবসরজীবন কামনা করেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে গ্রামের মুরব্বি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।















