শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাঁদের প্রত্যেককে তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন ছড়ায় অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনের সময় তাঁদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-শ্রীমঙ্গল উপজেলার দক্ষিণ সাইটুলা এলাকার সিপেন কুর্মী (২৮) ও বিশ্বনাথ কুর্মী (২৬)।ছড়ায় বালু উত্তোলন, জেলে দুইজনতাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত উপজেলার উদনা ছড়া, লাংলিয়া ছড়া ও ডিংডিংগিয়া ছড়ার গোলগাঁও, সিক্কা ও খারিজ্জমা এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শ্রীমঙ্গলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম।
প্রশাসন জানায়, অভিযানের খবর যাতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আগেভাগে জানতে না পারেন, সে জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে একটি পৃথক দল সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে আগে থেকেই অবস্থান নিয়ে নজরদারি করছিল। তবে কয়েকজন বালু উত্তোলনকারী অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে ছড়ার অপর পাশ দিয়ে পালিয়ে যান।
পরে সাইটুলা গ্রামের ডিংডিংগিয়া ছড়ায় অভিযান চালানোর সময় বালু উত্তোলনরত অবস্থায় সিপেন কুর্মী ও বিশ্বনাথ কুর্মীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত প্রত্যেককে তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। গত তিন মাসে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলাগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর ইসলাম বলেন, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি যেসব এলাকায় বালু উত্তোলনের প্রবণতা রয়েছে, সেসব এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের বিলাছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলন করা প্রায় ১০ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন।


















