উপজেলা প্রতিনিধি (কমলগঞ্জ):
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ শুমারির জন্য স্বেচ্ছাসেবী তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর গত ৭ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হলে বঞ্চিত প্রার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ২৯ জুলাই ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য স্বেচ্ছাসেবী তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে আবেদনকারী প্রার্থীদের মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দীর্ঘ দেড় মাস পর গত ৭ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
উপজেলা নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দীপ তালুকদার, সদস্য-সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউসুফ মিঞা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন নাহার পারভীন এবং উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মোঃ রকিবুল হকের যৌথ স্বাক্ষরে ওই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।
ফলাফল প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় বঞ্চিত প্রার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহলের অনেককে। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া একজন ব্যক্তিকেও সুপারভাইজার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শরীফ মোয়াজ নামে এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ তালুকদারকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “আপনি কীভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড শুমারির সুপারভাইজার সিলেক্ট করলেন? কাদের নির্দেশে আপনি এটা করার সাহস পেলেন, তার চেহারা কমলগঞ্জের সাধারণ জনগণ সবাই চেনে।”
এদিকে পূর্বে বিভিন্ন জাতীয় জরিপ ও শুমারিতে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীরাও এবারের ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
এম এ জুলফিকার আলী নামে এক প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টের কমেন্টে লিখেছেন, “৩-৪টি অভিজ্ঞতা সনদ থাকা সত্ত্বেও বাদ পড়লাম। আদমশুমারি, খানাশুমারি, জনশুমারি ও অর্থনৈতিক শুমারিতে গণনাকারী ও সুপারভাইজার হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা এবং সনদ থাকা সত্ত্বেও আমাকে মূল তালিকায় রাখা হয়নি, রাখা হয়েছে অপেক্ষমাণ তালিকায়।”
অন্য ক্ষুব্ধ প্রার্থীদের অভিযোগ, মেধা, দক্ষতা ও পূর্ব অভিজ্ঞতাকে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে অদক্ষ এবং পূর্বে কোনো জরিপে কাজের অভিজ্ঞতা নেই এমন ব্যক্তিদেরও চূড়ান্ত তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। ফুলবাড়ি চা বাগানসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকেও একই ধরনের বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দীপ তালুকদার। তিনি বলেন, “আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেভাবেই পুরো শুমারির জন্য স্বেচ্ছাসেবী তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার তালিকা প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিভিত্তিক কোনো স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের সুযোগ ছিল না।”
ফলাফল নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন বঞ্চিত প্রার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহল।





